পরবর্তী ইফতার
আজকের তারিখ...
আপনার এলাকা নির্বাচন করুন
* সেহরি ও ইফতারে এই সময় যোগ হবে।
রোজার নিয়ত (সংক্ষিপ্ত)
نَوَيْتُ اَنْ اُصُوْمَ غَدًا...
ইফতারের দোয়া (সংক্ষিপ্ত)
اللَّهُمَّ لَكَ صُمْتُ...
বিশেষ জ্ঞাতব্য:
- সেহরীর শেষ সময়ের ১০ মিনিট পর ফজরের আজান হবে।
- আপনার যাকাতের চারভাগের একভাগ এবং আপনার পরিবারের ফিতরা সমূহ আঞ্জুমান পরিচালিত মাদ্রাসা সমূহের এতিম/মিসকিন ফান্ডের জন্য দান করুন।
রোযা
শা'বানের পর আসে মাহে রমযান। পবিত্র রমযান এক মাসের রোযা রাখা প্রত্যেক বালেগ-আক্কেল মুসলমানের উপর ফরয। কেউ শরীয়ত সম্মত কারণে রোযা রাখতে অপারগ হলে প্রত্যেক রোযার জন্য 'ফিদিয়া' দিতে হয়। রোযা পালনের জন্য নিয়্যত করতে হয়। সারাদিন রোযা পালনের পর সূর্যাস্তের সাথে সাথে ইফতার করতে হয়। সুতরাং রোযা ও ইফতারের নিয়্যত নিম্নে প্রদত্ত হল:
রোযার নিয়্যত
نَوَيْتُ أَنْ أَصُومَ غَدًا مِّنْ شَهْرٍ رَمَضَانَ الْمُبَارَكِ فَرْضًا لَّكَ يَا الله فَتَقَبَّلُ مِنِّي إِنَّكَ أَنْتَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ
উচ্চারণ : নাওয়াইতু আন্ আসূ-মা গাদাম্ মিন শাহরি রামাদ্বা-নাল মুবারাক; ফারদ্বাল্ লাকা ইয়া-আল্লা-হ, ফাতাক্বাব্বাল মিন্নী- ইন্নাকা আন্তাস্ সামী 'উল্ 'আলী-ম।
অর্থঃ আমি আগামীকাল পবিত্র রমযান মাসের ফরয রোযা রাখার নিয়্যত করলাম। হে আল্লাহ! তুমি এটা আমার নিকট থেকে কবুল কর; নিশ্চয় তুমি শ্রোতা, জ্ঞাতা।
ইফতারের নিয়্যত
أَللَّهُمَّ لَكَ صُمْتُ وَعَلَيْكَ تَوَكَّلْتُ وَعَلَى رِزْقِكَ أَفْطَرْتُ بِرَحْمَتِكَ يَا أَرْحَمَ الرَّحِمِينَ
উচ্চারণ : আল্লা-হুম্মা লাকা ছুমতু ওয়া 'আলায়কা তাওয়াক্কাল্টু ওয়া 'আলা-রিযক্বিকা আফতারতু বিরাহমাতিকা ইয়া-আর হামার রা-হিমী-ন।
অর্থ : হে আল্লাহ! তোমারই (সন্তুষ্টির) জন্য আমি রোযা রেখেছি, তোমার উপরই ভরসা করেছি এবং তোমারই রিযক্বের উপর ইফতার করছি, তোমার দয়া সহকারে, হে সর্বাধিক দয়ালু।
তারাবীহ
পবিত্র রমযানের প্রত্যেক রাতে এশা ও বিতরের নামাযের মধ্যভাগে দু'দু'রাক'আত করে বিশ রাক'আত তারাবীহর নামায পড়ার বিধান রয়েছে।
তারাবীহর নামাযের নিয়্যত
نَوَيْتُ أَنْ أُصَلِّيَ لِلَّهِ تَعَالَى رَكْعَتَى صَلوةِ التَّرَاوِيحِ - سُنَّةُ رَسُولِ اللَّهِ تَعَالَى مُتَوجِهَا إِلَى جِهَةِ الْكَعْبَةِ الشَّرِيفَةِ اللَّهُ أَكْبَرُ
উচ্চারণ : নাওয়াইতু আন্ উসোয়াল্লিয়া লিল্লা-হি তা'আ-লা রাকা'আতাই সোয়ালা-তিত্ তারা-ভী-হ। সুন্নাতু রসূ-লিল্লা-হি তা'আ-লা মুতাওয়াজ্জিহান্ ইলা-জিহাতিল্ কা'বাতিশ্ শারী-ফাতি আল্লা-হু আকবার।
অর্থঃ আমি আল্লাহর উদ্দেশ্যে ক্বেবলামুখী হয়ে দু' রাক'আত তারাবীহর সুন্নাত নামায সম্পন্ন করছি। আল্লাহু আকবার।
প্রতি দুই রাক'আত নামাযের পর দরূদ শরীফ
اللَّهُمَّ صَلِّ عَلَى سَيِّدِنَا وَنَبِيِّنَا وَشَفِيْعِنَا وَمَوْلَانَا مُحَمَّدٍ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَالِهِ وَأَصْحَابِهِ وَبَارِكْ وَسَلِّمُ
উচ্চারণ : আল্লা-হুম্মা সল্লি আ'লা- সাইয়্যিদিনা ওয়া নাবিয়্যিনা- ওয়া শাফী-'ইনা- ওয়া মাওলা-না- মুহাম্মাদিন্ সাল্লাল্লা-হু আলায়হি ওয়া আ-লিহী ওয়া আসহা-বিহী ওয়া বারিক ওয়া সাল্লিম।
هَذَا مِنْ فَضْلِ رَبِّي يَا كَرِيمَ الْمَعْرُوفِ وَيَا قَدِيمَ الْإِحْسَانِ ثَبِّتُ قَلْبِي عَلَى دِينِكَ بِرَحْمَتِكَ يَا أَرْحَمَ الرّاحِمِينَ
উচ্চারণ : হা-যা- মিন্ ফাদুলি রব্বী- ইয়া- কারী-মাল্ মা'রূ-ফ, ওয়া ইয়া- ক্বাদী-মাল ইহসা-ন, ওয়া সাব্বিত ক্বল্পী- 'আলা- দী-নিকা, বিরহমাতিকা ইয়া- আরহামার রা-হিমীন।
প্রতি চার রাক'আত তারাবীহ নামাযের পর দো'আ
سُبُحْنَ ذِي الْمُلْكِ وَالْمَلَكُوتِ سُبُحْنَ ذِي الْعِزَّةِ وَالْعَظْمَةِ وَالْهَيْبَةِ وَالْقُدْرَةِ وَالْكِبْرِيَاءِ وَالْجَبَرُوتِ - سُبُحْنَ الْمَلِكِ الْحَيِّ الَّذِي لَا يَنَامُ وَلَا يَمُوْتُ اَبَدًا اَبَدًا - سُبُّوحٌ قُدُّوسٌ رَبُّنَا وَرَبُّ الْمَلَائِكَةِ وَالرُّوحِ
উচ্চারণ : সুবহা-না যিল মুল্কি ওয়াল মালাকৃতি, সুবহা-না যিল্ 'ইয্যাতি ওয়াল 'আয্যাতি ওয়াল্ হায়বাতি ওয়াল্ কুদ্রাতি ওয়াল্ কিবরিয়া-ই ওয়াল্ জাবারূ-তি, সুবহা-নাল মালিকিল হাইয়্যিল লাযী- লা-ইয়ানা-মু ওয়ালা- ইয়ামূ-তু আবাদান্ আবাদা-। সুব্বু-হুন কুদ্দু-সুন রাব্বুনা-ওয়া রাব্বুল মালা-ইকাতি ওয়ার্ রূ-হ।
তারাবীহ নামাযের প্রতি চার রাক'আত পর মুনাজাত
اللَّهُمَّ إِنَّا نَسْتَلُكَ الْجَنَّةَ وَنَعُوذُبِكَ مِنَ النَّارِ، يَا خَالِقَ الْجَنَّةِ وَالنَّارِ، بِرَحْمَتِكَ يَا عَزِيزُ يَا غَفَّارُ يَا كَرِيمُ يَا سَتَارُ يَا رَحِيمُ يَا جَبَّارُ يَا خَالِقُ يَا بَارُ - اللَّهُمَّ أَجِرْنَا وَخَلَّصْنَا مِنَ النَّارِ يَا مُجِيرُ، يَا مُجِيرُ ، يَامُجِيرُ، بِرَحْمَتِكَ يَا أَرْحَمَ الرَّاحِمِينَ
উচ্চারণ : আল্লা-হুম্মা ইন্না- নাআলুকাল্ জান্নাতা ওয়া না'ঊ-যুবিকা মিনান্ না-র, ইয়া খা-লিকাল জান্নাতি ওয়ান্ না-র; বিরাহমাতিকা ইয়া- আযী-যু ইয়া গাফ্ফা-রু ইয়া কারী-মু ইয়া সাত্তা-রু ইয়া রাহী-মু ইয়া জাব্বা-রু ইয়া খা-লিকু ইয়া বা-র্। আল্লা-হুম্মা আজিরনা ওয়া খাল্লিসনা- মিনান্ না-র। ইয়া- মুজী-রু ইয়া মুজী-রু ইয়া মুজী-র, বিরাহমাতিকা ইয়া-আর হামার রা-হিমী-ন।
ই'তিকাফ
ই'তিকাফ-এর নিয়্যতে মসজিদে অবস্থান করার নাম ই'তিকাফ। ই'তিকাফ তিন প্রকার- ১.ওয়াজিব, ২. সুন্নাত-ই মুআক্কাদাহ ও ৩. মুস্তাহাব।
১. ই'তিকাফ-ই ওয়াজিব
এটা মান্নতের ই'তিকাফ। এটা পালনের জন্য রোযা রাখা অত্যাবশ্যক। রোযা ব্যতীত এটা বিশুদ্ধ হয় না।
২. ই'তিকাফ-ই সুন্নাত-ই মুআক্কাদাহ
এটা রমযান মাসের পূর্ণ শেষ দশদিনে করা হয়। ২০ রমযান সূর্যাস্তের সময় বা পূর্বে ই'তিকাফের নিয়্যতে মসজিদে উপস্থিত হতে হয়। আর ৩০ রমযান সূর্যাস্তের পর অথবা ২৯ রমযান শাওয়ালের চাঁদ দৃষ্ট হওয়ার পর মসজিদ থেকে বের হবেন। অন্যথায় এ পর্যায়ের ই'তিকাফ সম্পন্ন হবে না।
এ ই'তিকাফ হচ্ছে সুন্নাত-ই মুআক্কাদাহ-ই কিফায়া। সবাই ছেড়ে দিলে সবাইকে পাকড়াও করা হবে। আর যদি একজনও তা সম্পন্ন করে নেন, তবে সবাই দায়িমুক্ত হয়ে যাবেন। এ ই'তিকাফের জন্যও রোযা রাখা পূর্বশর্ত। তবে রমযানের রোযাগুলোই তজ্জন্য যথেষ্ট। (হেদায়া ইত্যাদি)
৩. মুস্তাহাব ই'তিকাফ
উপরোক্ত দু'প্রকারের ই'তিকাফ ব্যতীত যে ই'তিকাফ করা হয় তা' মুস্তাহাব। এ ই'তিকাফের জন্য রোযা পূর্বশর্ত নয়। এটা কিছুক্ষণের জন্যও হতে পারে। মসজিদে যখনই যাবেন এ ই'তিকাফের নিয়্যত করে নেবেন। মসজিদ থেকে বের হতেই এ ই'তিকাফ খতম হয়ে যায়। এতে মুস্তাহাব ই'তিকাফের নিয়্যত করাই যথেষ্ট।
উল্লেখ্য, পুরুষের ই'তিকাফের জন্য মসজিদ জরুরি আর মেয়েদের জন্য নিজ ঘরের একটি বিশেষ জায়গা।